ঢাকা,

০৬ এপ্রিল ২০২৫


সাবেক রেলমন্ত্রীর বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাট

বিজনেস আই রিপোর্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৯, ৬ এপ্রিল ২০২৫

সাবেক রেলমন্ত্রীর বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাট

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক রেলমন্ত্রী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক মুজিবের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামের বাড়িওত এই ঘটনা ঘটে।

মুজিবুল হক কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের পাঁচবারের এমপি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরে মন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবারসহ তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

স্থানীয়রা জানান, দুই শতাধিক লোকজনের সংঘবদ্ধ একটি দল শনিবার বিকেলে সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হকের বাড়িতে হামলা চালান। এসময় তারা তিন তলা ভবনের নিচতলায় ও দোতলায় ব্যাপক ভাঙচুর চালান। ভবনটিতে লুটপাট শেষে নিচতলার দরজা-জানালা ভাঙচুরসহ বাড়ির জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন।

এছাড়াও ওই বাড়িতে মন্ত্রী মুজিবুল হকের ভাই ও ভাতিজাদের বেশ কয়েকটি ঘরে একইভাবে লুটপাটসহ ভাঙচুর করা হয়। এসময় মুজিবুল হকের ভাই আবদুল মতিনের ছেলে জজ আবদুস সালামের ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয় এবং আগুন দেওয়া হয়।

মুজিবুল হকের ভাতিজা তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আমার চাচা মুজিবুল হকের ভবনসহ বাড়ির বেশ কয়েকটি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন দিয়েছে। তারা দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এসময় বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে এই হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভিডিওচিত্র ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এছাড়া সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সূত্র জানায়, এর আগে মুজিবুল হকের এক ভাতিজা আহসান উল্লাহ স্থানীয় জামায়াতের এক নেতাকে গালমন্দসহ হুমকি-ধমকি দেওয়ার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা উত্তর পদুয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। রাত ৯ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, মুজিবুল হকের ভাতিজা আহসান উল্লাহ ও তার সহযোগীরা শনিবার দুপুরের দিকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা জেলা ছাত্র শিবিরের নেতা মহিউদ্দিন রনিকে লাঞ্ছিত করেছে বলে জেনেছি। এর জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হামলার সময় মহিউদ্দিন রনি ছিল না। হামলার ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও আসে। এর আগে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং হামলাকারীরা চলে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিএইচ

News